রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :::
সিলেটের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিলেট ফোকাস নিউজ ডটকম এর জন্য সিলেট বিভাগসহ দেশ বিদেশে সংবাদদাতা ও জেলা উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা ইমেইলে আপনাদের সিভি পাঠাতে পারেন।
শিরোনাম ::::
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ-করেন নবনির্বাচিত কোম্পানীগঞ্জে ৬টি ইউনিয়নে শ্রমিকদল এবার অজ্ঞান অবস্থায় সিলেটের দুই পরিবারের ৮ সদস্যকে উদ্ধার সিলেট স্টেশন ক্লাব লিমিটেড’র মতবিনিময় সভা-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল বন্যার তথ্য আগাম জানাতে সম্মত হয়েছে ভারত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজুরি বৃদ্ধি দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চা শ্রমিকরা কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ সিলেট থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট যাবে: বিমান প্রতিমন্ত্রী বন্যার্তদের মাঝে জিএসসি ইউকে সেন্ট্রাল কমিটির অর্থ বিতরণ শ্রীকৃষ্ণ ভক্তবৃন্দ সম্মিলিত জন্মাষ্ঠমী উদযাপন পরিষদের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ব্যারিষ্টার সুমনের ৬ষ্ট ধাপে কোম্পানিগঞ্জে গৃহ নির্মাণের ঘর হস্তান্তর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ বেহেস্তে আছে-সিলেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সংকট নিরসনে আওয়ামীলীগের পদত্যাগের বিকল্প নেই-সিলেট জেলা বিএনপি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেটে জাতীয় কমিটির বিক্ষোভ দাবি না মানলে মহাসড়কে অবস্থানের ঘোষণা চা-শ্রমিকদের সিলেটের পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর আছে : মাহবুব আলী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অনলাইন ক্লাসে ফিরছে শাবিপ্রবি সিলেটের ছাত্রদল নেতা রাজু হত্যার ৪ বছর-বারবার পেছাচ্ছে সাক্ষ্যগ্রহণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের সেবক: জেলা প্রশাসক সিলেটে যুবলীগ নেতা টিটু চৌধুরীর স্মরণে শোকসভা
হজের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত

হজের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::  ইসলামের চতুর্থ রোকন হজ। এটি মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, জান ও মালের ইবাদত। হজ কবুল হলে দুধের শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায় বান্দা। তাই মুমিন হৃদয়ে হজের তামান্না, কাবা শরিফ দর্শনে চোখ শীতলের বাসনা থাকে।

মহান আল্লাহ যাকে কবুল করেন তাকেই পবিত্র ভূমি দর্শনে নিয়ে যান। শুধু অর্থ নয়, চোখের পানির বদৌলতেও অনেক গরিব মিসকিন বান্দা আল্লাহর ঘর তওয়াফের সৌভাগ্য লাভ করেন। প্রিয় নবীর রওজা মোবারক জিয়ারত করেন।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘মক্কা শরিফ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর আল্লাহর জন্য হজ আদায় করা ফরজ’ (সূরা আল ইমরান, আয়াত: ৯৭)। ইসলামের এ ফরজ বিধানটি সঠিকভাবে পালন করার জন্য কিছু বিধানাবলী রয়েছে। হজ আদায়ে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এসব বিধানের প্রতি লক্ষ রাখা আবশ্যক।

হজের ফরজ তিনটি। যথা-

(১) ইহরাম বাঁধা:

ইহরাম বাঁধা অর্থাৎ হজের নিয়ত করা। হে আল্লাহ! আমি হজ উমরা এবং কাবাগৃহ তাওয়াফের জন্য নিয়ত করলাম। তুমি তা কবুল কর।

ইহরাম বাঁধার নিয়ম:

পবিত্র হজ ও ওমরাহর আমলগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম আমল হলো ইহরাম বাঁধা। ইহরাম বাঁধার নিয়ম হলো, হজ অথবা ওমরাহর নিয়তে সেলাইকৃত কাপড় খুলে সেলাইবিহীন দুইটি চাদর পরিধান করে ‘তালবিয়াহ্’ পাঠ করা, শরিয়তের পরিভাষায় একেই ‘ইহরাম’ বলা হয়। ইহরাম বাঁধার উত্তম পদ্ধতি হলো, যখন ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করবে তখন প্রথমে গোসল অথবা অজু করবে, নখ কাটবে, বগল ও নাভির নিচের চুল পরিষ্কার করবে এবং মাথা ও দাড়ি চিরুনি করে সর্ববিষয়ে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করবে। ইহরামের জন্য দুইটি নতুন অথবা ধোলাই করা পরিষ্কার চাদর হওয়া সুন্নত।

একটি চাদর দিয়ে লুঙ্গি বানাবে অন্যটি দিয়ে চাদর বানাবে। ইহরামের কাপড় পরিধান করার পর নামাজের মাকরুহ সময় না হলে মাথা ঢেকে দুই রাকাআত নফল নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব। নামাজ পড়ে মাথার কাপড় খুলে ফেলবে এবং যেই হজের ইচ্ছা করবে মনে মনে সেই হজের নিয়ত করে ইহরামের ‘তালবিয়াহ্’ পাঠ করবে।

তালবিয়ার উচ্চারণ:

‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়াননিমাতা লাকা ওয়ালমুলক, লা শারিকা লাকা’।

(২) অকুফে আরাফা (আরাফার ময়দানে অবস্থান করা): জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজরের পর থেকে সূর্যাস্ত যাওয়া পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।

(৩) তাওয়াফে যিয়ারাত (চার চক্কর পরিমাণ):

অর্থাৎ মক্কা শরিফ পৌঁছার পর সর্বপ্রথম কাজটি হলো চারবার কাবাগৃহটি প্রদক্ষিণ করা আবার হজের কাজ শেষ করে বাড়িতে ফেরার সময় সর্বশেষ কাজ হলো তিনবার কাবাগৃহ প্রদক্ষিণ করে রওনা হওয়া।

হজের ওয়াজিব:

হজের মধ্যে ওয়াজিব কাজ মোট ৮টি যথা- (১) মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা:

ইবনু ‘আববাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাবাসীদের জন্য মিকাত নির্ধারণ করেন যুল-হুলায়ফাহ, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম ও নাজদবাসীদের জন্য ক্বারণ। উল্লিখিত স্থানসমূহ হজ ও উমরাহ’র নিয়তকারী সে স্থানের অধিবাসী এবং সে সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য এলাকার অধিবাসীদের জন্য ইহরাম বাঁধার স্থান। আর যে মীকাতের ভিতরের অধিবাসী সে নিজ বাড়ি হতে ইহরাম বাঁধবে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা হতেই ইহরাম বাঁধাবে। (সহীহ বুখারী,হাদিস নং-১৫২৯)

(২) সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করা:

হজরত আলী (রা.) সূত্রে বর্ণিত তিনি বলেন, অত:পর তিনি নবী (সা.) উসামাহকে বাহনের পেছনে বসিয়ে মধ্যম গতিতে উষ্ট্রী চালিয়ে গেলেন। এ সময় লোকেরা তাদের উটকে ডানে-বামে মারধর করে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তিনি তাদের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বলতে লাগলেন, শান্ত গতিতে চলো হে মানুষজন! অত:পর সূর্য ডুবার পরই তিনি আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। (সুনানু দাউদ, হাদিস নং-১৯২২)

(৩) আরাফায় অবস্থান করা: আরাফার দিন শেষে ঈদের রাত ফজর পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করা যতক্ষণ আকাশ প্রস্ফুটিত না হয়। তবে মহিলা ও দুর্বল পুরুষদের জন্য মধ্য রাতের পর মুযদালিফা ত্যাগ করা বৈধ আছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) তার পরিবারের দুর্বল লোকদের আগেই পাঠিয়ে দিয়ে রাতে মুযদালিফাতে মাশ‘আরে হারামের নিকট অবস্থান করতেন এবং সাধ্যমত আল্লাহর যিকির করতেন। অত:পর ইমাম (মুযদালিফায়) অবস্থান করার ও রওয়ানা হওয়ার আগেই তারা (মিনায়) ফিরে যেতেন। তাদের মধ্যে কেউ মিনাতে আগমন করতেন ফজরের সালাতের সময় আর কেউ এরপরে আসতেন, মিনাতে এসে তারা কঙ্কর মারতেন। ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, তাদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কড়াকড়ি শিথিল করে সহজ করে দিয়েছেন। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ১৬৭৬)

(৪) আইয়ামে তাশরিকের অর্থাৎ [১১.১২ ও ১৩ তারিখের ] রাত্রিগুলো মিনা এলাকায় কাটানো: ইবনু উমার (রা.) হতে বর্ণিত যে, ‘আববাস (রা.) পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থানের ব্যাপারে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং-১৭৪৫)

(৫) আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোতে তিন জামারাতেই কঙ্কর তথা পাথর নিক্ষেপ করা:

ইবনু উমার (রা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি প্রথম জামরায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সাথে তাকবির বলতেন। তারপর সামনে অগ্রসর হয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতেন এবং উভয় হাত তুলে দোয়া করতেন। অত:পর মধ্যবর্তী জামরায় কঙ্কর মারতেন এবং একটু বাঁ দিকে চলে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী দাঁড়িয়ে উভয় হাত উঠিয়ে দোয়া করতেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। এরপর বাতনে ওয়াদী হতে জামরায়ে ‘আকাবায় কঙ্কর মারতেন। এর কাছে তিনি বিলম্ব না করে ফিরে আসতেন এবং বলতেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং-১৭৫১)

(৬) দশ তারিখ ঈদের দিনে জামারাতুল আকাবাতে বা সর্বশেষ বড় পাথর মারার স্থানে পাথর নিক্ষেপ করে মাথার চুল মুন্ডন করা অথবা ছোট করা:

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা কামালেন এবং সাহাবীদের একদলও। আর অন্য একটি দল চুল ছোট করলেন। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং-১৭২৯)

(৭) শুধু মাত্র কিরান ও তামাত্তু হজ পালনকারীদের জন্য হাদয়ী তথা হজের কোরবানি করা:
৮. সকলের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করা:

ইবনু আববাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেদের আদেশ দেয়া হয় যে, তাদের শেষ কাজ যেন হয় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ। তবে এ হুকুম ঋতুকালীন নারীদের জন্য শিথিল করা হয়েছে। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং-১৭৫৫)

হজের সুন্নতসমূহ-

(১) মিকাতের বাইরে থেকে আগত ইফরাদ ও কেরান হজ পালনকারীর জনু তাওয়াফে কুদুম করা। (ইফরাদ হজ পালনকারী মক্কা পৌঁছে এবং কেরা হজ পালনকারী ওমরার কার্য সম্পাদন করে মাথার চুল না কেটেই তাওয়াফে কুদুম করবে। (২) তাওয়াফে কুদূমের পর যদি হজের সায়ী করার ইচ্ছা থাকে, তবে তাতে রমল ও ইযতিবা করা (আর তাওয়াফে কুদুমের পরে হজের সায়ী করার ইচ্ছা না থাকলে তাতে রমল ও ইযতিবা করতে হবে না।)

(৩) সাফা মারওয়ায় সায়ীর সময় সবুজ দুই পিলারের মধ্যবর্তী স্থান পুরুষের জন্য দৌঁড়ে অতিক্রম করা এবং অবশিষ্ট স্থান হেঁটে চলা।

(৪) ৮ জিলহজ বাদ ফজর মিনার উদ্দেশ্যে রওয়া হওয়া এবং তথায় পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামাজ) আদায় করা। (ভিড় এড়াবার লক্ষ্যে বা অন্য কোনো কারণে ফজরের পূর্বে ও রাতে রওনা দেয়াও জায়েজ।)

(৫) ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর মিনা হতে আরাফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া। পূর্বে ও রাতে যাওয়া ও দিবাগত রাত্রে মুযদালিফায় থাকা। (কোনো অসুবিধার কারণে বা ভিড় এড়াবার লক্ষ্যে বা অন্য কোনো কারণে ফজরের পূর্বে ও রাতে রওনা হওয়াও জায়েজ।)

(৬) আরাফা থেকে সূর্যাস্তের পর ধীরস্থীরভাবে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া।

(৭) ৯ যিলহজ্জ সূর্যাস্তের পর আরাফা থেকে মুযদালিফায় এসে রাতযাপন করা। (উল্লেখ্য, মুযদালিফায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই কিছুক্ষণ উকুফ বা অবস্থান করা ওয়াজিব, সুবহে সাদিকের পূর্বে অবস্থান করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।)

(৮) আরাফার ময়দানে গোসল করা।

(৯) ৮ জিলহজ দিবাগত রাতসহ মিনায় অবস্থানের দিনগুলোয়তে রাতযাপনও মিনাতে করা। উক্ত সুন্নতসমূহ থেকে কোনো সুন্নত স্বেচ্চায় ছেড়ে দেয়া ঠিক নয়। অবশ্য ছেড়ে দেয়ার দ্বারা সদকা ইত্যাদিও ওয়াজিব হবে না, তবে সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন আমলের মাঝে আরো অনেক সুন্নত রয়েছে।

ইহরাম অবস্থায় বর্জনীয় বা নিষিদ্ধ কাজ:

ইহরাম অবস্থায় ব্যক্তিকে যে বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকতে হয়। যেমন- (১) মাথার চুল মুন্ড করা। ‘আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবানির পশু যথাস্থানে পৌঁছে যাবে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৯৬) আলেমগণ মাথার চুলের সাথে শরীরের সমস্ত পশমকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অনুরূপভাবে নখ কাটা ও ছোট করাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

(২) ইহরাম বাঁধার পর সুগন্ধি ব্যবহার করা; কাপড়ে হোক কিংবা শরীরে হোক, খাবারদাবারে হোক কিংবা গোসলের সামগ্রীতে হোক কিংবা অন্য যে কোনো কিছুতে হোক। অর্থাৎ ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম। (৩) সহবাস করা: ‘হজের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস আছে। যে ব্যক্তি সেসব মাসে নিজের ওপর হজ অবধারিত করে নেয় সে হজের সময় কোনো যৌনাচার করবে না, কোনো গুনাহ করবে না এবং ঝগড়া করবে না।’ (সূরা বাকারা, আয়াত ২: ১৯৭)

(৪) উত্তেজনাসহ স্ত্রীকে ছোঁয়া।

(৫) কোনো শিকার হত্যা করা। ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকার বধ করো না’ (সূরা মায়েদা, আয়াত: ৯৫) (৬) ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য বিশেষ নিষিদ্ধ বিষয়াবলীর মধ্যে রয়েছে, জামা, টুপি, পায়জামা, পাগড়ি ও মোজা পরিধান করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছে মুহরিম কি পরিধান করবে; তখন তিনি বলেন, ‘মুহরিম ব্যক্তি জামা, টুপি, পায়জামা, পাগড়ি ও মোজা পরিধান করবে না। তবে যে ব্যক্তির পরার মত লুঙ্গি নেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পায়জামা পরার অনুমতি দিয়েছেন এবং যার জুতা নেই তাকে মোজা পরার অনুমতি দিয়েছেন।

(৭) ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য বিশেষ নিষিদ্ধ বিষয়াবলীর মধ্যে রয়েছে নেকাব। নেকাব হচ্ছে এমনভাবে মুখ ঢাকা যাতে চোখ দুইটি ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। অনুরূপভাবে স্কার্ফ পরাও নিষিদ্ধ। ইহরাম অবস্থায় নারীগণ নেকাব বা স্কার্ফ পরবে না। নারীর মুখ খোলা রাখা শরিয়তসঙ্গত। তবে বেগানা পুরুষের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে মুখ ঢেকে নিবে; যে কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকবে সেটা যদি মুখ স্পর্শ করে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

  •  
  •  
  •  
  •  

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © sylhetfocusnews.com
Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo