রোববার দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তোর উপদেষ্টা ফ্রান্সিন টলেনটিনো জানান, ঘূর্ণিঝড় মঙ্খুটের আঘাতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি জানান, লুজন দ্বীপের কোর্ডিলেরা এলাকায় ২০ জন এবং পার্শ্ববর্তী নুভা ভিজকায়া প্রদেশে ভূমিধসে ৪ জন নিহত হয়েছেন। অন্যজন নিহত হয়েছেন রাজ্যের লোকাস সুর এলাকায় গাছের নিচে চাপা পড়ে।

ফ্রান্সিন টলেনটিনো আরো জানান, প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দতের্তো নিজে এই ঘূর্ণিঝড়ের পর উদ্ধার তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছেন।

ফিলিপাইনের রেডক্রসের চেয়ারম্যান রিচার্ড গর্ডন জানান, এখনো বিপদ কেটে যায়নি। ঝড় দুর্বল হওয়ার পর প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে যেমন ভূমিধস হচ্ছে, সামনে বন্যারও আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল শনিবার ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মঙ্খুট ফিলিপাইনের উত্তর প্রান্তে আঘাত হানে।

স্থানীয়দের কাছে ‘অম্পং’ বলে পরিচিত টাইফুন মঙ্খুটের বাতাসের গতিবেগ একটা পর্যায়ে ঘণ্টায় ৩০৫ কিলোমিটারে গিয়েও পৌঁছেছিল।

লুজন দ্বীপ এলাকায় তাণ্ডব চালানোর পর ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে দক্ষিণ চীন ও হংকংয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার বিকেলের দিকে ঝড়টি হংকংয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাবে। তবে সরাসরি হংকংয়ে আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই।

এরপরও হংকং কর্তৃপক্ষ ওই অঞ্চলে ৯ মাত্রার সতর্কতা জারি করেছে। লোকজনকে বাড়িতে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছে।

হংকংয়ের তাইও গ্রামের অ্যান্তইনি লি নামে জরুরি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ঘূর্ণিঝড় মঙ্খুটকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এটি খুবই বিপজ্জনক। সম্ভবত রাতে আঘাত হানবে, যখন মানুষের নিরাপদে যাওয়ার সুযোগ কম। এজন্য সবাইকে গ্রাম ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

সতর্কতা হিসেবে হংকংয়ে পাঁচ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে লক্ষাধিক যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তবে আগামী মঙ্গলবার মঙ্খুট দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।