রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :::
সিলেটের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিলেট ফোকাস নিউজ ডটকম এর জন্য সিলেট বিভাগসহ দেশ বিদেশে সংবাদদাতা ও জেলা উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা ইমেইলে আপনাদের সিভি পাঠাতে পারেন।
শিরোনাম ::::
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ-করেন নবনির্বাচিত কোম্পানীগঞ্জে ৬টি ইউনিয়নে শ্রমিকদল এবার অজ্ঞান অবস্থায় সিলেটের দুই পরিবারের ৮ সদস্যকে উদ্ধার সিলেট স্টেশন ক্লাব লিমিটেড’র মতবিনিময় সভা-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল বন্যার তথ্য আগাম জানাতে সম্মত হয়েছে ভারত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজুরি বৃদ্ধি দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চা শ্রমিকরা কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ সিলেট থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট যাবে: বিমান প্রতিমন্ত্রী বন্যার্তদের মাঝে জিএসসি ইউকে সেন্ট্রাল কমিটির অর্থ বিতরণ শ্রীকৃষ্ণ ভক্তবৃন্দ সম্মিলিত জন্মাষ্ঠমী উদযাপন পরিষদের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ব্যারিষ্টার সুমনের ৬ষ্ট ধাপে কোম্পানিগঞ্জে গৃহ নির্মাণের ঘর হস্তান্তর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ বেহেস্তে আছে-সিলেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সংকট নিরসনে আওয়ামীলীগের পদত্যাগের বিকল্প নেই-সিলেট জেলা বিএনপি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেটে জাতীয় কমিটির বিক্ষোভ দাবি না মানলে মহাসড়কে অবস্থানের ঘোষণা চা-শ্রমিকদের সিলেটের পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর আছে : মাহবুব আলী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অনলাইন ক্লাসে ফিরছে শাবিপ্রবি সিলেটের ছাত্রদল নেতা রাজু হত্যার ৪ বছর-বারবার পেছাচ্ছে সাক্ষ্যগ্রহণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের সেবক: জেলা প্রশাসক সিলেটে যুবলীগ নেতা টিটু চৌধুরীর স্মরণে শোকসভা
‘নির্বাচনের এক নম্বর শর্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি’

‘নির্বাচনের এক নম্বর শর্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি’

ফোকাস ডেস্ক::  আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এক নম্বর শর্ত হিসেবে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার ‘মুক্তি’র ‍বিষয়টি সামনে আনল বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতারা বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্র এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক সুতোয় গাঁথা। নির্বাচন করতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তাকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’

শুক্রবার (২০ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে দলটির শীর্ষ নেতারা এ সব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বিএনপি এ সমাবেশের আয়োজন করে।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জে ড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ অন্যরা।

সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের পরিষ্কার দাবি নির্বাচন করতে হলে আমাদের এক নম্বর শর্ত হলো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। দেশনেত্রীকে কারাগারে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না। এই দেশের মানুষ তা হতে দেবে না।

‘আমরা বলেছি এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। অবশ্যই পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নব গঠিত ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’-কে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি ৮টি বাম গণতান্ত্রিক দলকে। তারা একটি মোর্চা গঠন করেছে এবং জনগণের এই ইস্যুগুলোকে তারা দাবি হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। একইভাবে আশা করব অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবেন এবং এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলবেন।’

সমাবেশ সফল করার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান আপনাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, এই ধারা অব্যাহত রাখবেন এবং আগামী যে কোনো কর্মসূচিতে এভাবেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণ করবেন— সেটাই হবে আমাদের মুক্তির পথ।’

‘আন্দোলন, আন্দোলন এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমাদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে’— বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘এই অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে হবে এবং জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই জনগণের প্রতিনিধি। তিনি বার বার কারাবরণ করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, নিপীড়িত হয়েছেন জনগণের অধিকারের দাবিতে।’

‘দেশের কেউ নিরাপদ নয়’ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য নয়। আমাদেরকে এমপি মন্ত্রী বানানোর জন্য নয়। আমরা এই দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছি।’

‘আমরা আমাদের অধিকার ফিরে চাই, ভোটের অধিকার ফিরে চাই, সভা-সমিতি করতে চাই, আমি কথা বলতে চাই, আমার সাংবাদিকরা ভাইয়েরা যেন সুন্দর করে লিখতে পারেন, নির্ভয়ে লিখতে পারেন সেই পরিবেশ চাই। কিন্তু তা আপনারা দেবেন না। কেন দেবেন না? আপনারা জানেন সত্য কথা যদি বেরিয়ে আসে, তাহলে আপনাদের কোনো নিস্তার থাকবে না’— বলেন ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘আপনারা সকল দলের অংশ গ্রহণে নির্বাচন করবেন না। কারণ, আপনারা জানেন সকল দল অংশ গ্রহণ করলে আপনারা ২০টি আসনও পাবেন না।’

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকারের একটাই উদ্দেশ্য খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে, কারাগারে রেখে আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করা। এই সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান স্তম্ভ ভেঙে দিয়েছে। আজকে যদি বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকত, তাহলে তিন দিনের মধ্যে খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেতেন।’

‘দেশের জনগণ আর এই সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, যতই ষড়যন্ত্র করা হোক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া এ দেশের জনগণ আগামী নির্বাচন হতে দেবে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এক সুতোয় গাঁথা।’

‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে এ দেশে আগামী দিনে কোনো গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। আজকে সারা পৃথিবী বলছে বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি ছাড়া এ দেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না’—বলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এই সরকার বিনা ভোটের সরকার। অন্যায়ভাবে, জোর করে, সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী পথ অবলম্বন করে আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করছে। তারা এক দলীয় এবং কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে।’

‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে হবে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এক নম্বর চ্যালেঞ্জ হলো খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। যদি আইনের প্রক্রিয়ায় সম্ভব না হয়, তাহলে রাজপথই হবে একমাত্র পথ তাকে মুক্ত করার। সেই জন্য আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

বাংলাদেশে এখন আইনের শাসন নেই উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৮ শ’ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেল অথচ একটা লোককেও তারা (সরকার) গ্রেফতার করল না। আজকে ভোল্টের সোনা তামা হয়ে গেছে। কিন্তু একজন মানুষকেও গ্রেফতার করা হয় নাই।’

‘বাংলাদেশের মানুষ কি বিশ্বাস করবে? এই যে টাকা চুরি, ভোল্টের সোনা চুরি— এটার সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত নয়? সুতরাং এটা প্রমাণ করে, এই কাজের পেছনে সরকারের মদদপুষ্ট মানুষ আছে বলেই আইনের প্রয়োগ তারা করতে চান না’— বলেন মওদুদ।

এদিকে সমাবেশ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হন বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। হাতে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, মাথায় হেডার ও ব্যাজ পরে হাজির হওয়া হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে রাখে পল্টন সড়ক।

সমাবেশে আসা কর্মী-সমর্থকদের অবস্থানের কারণে নয়াপল্টন সড়কের দুই পাশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শুরুর দিকে পুলিশি তৎপরতায় সীমিত পরিসরে যান চলাচল করলেও বিকেল ৩টার পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে সড়কের দুই পাশ।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করার জন্য গত পাঁচ মাসে বেশ কয়েকবার অনুমতি চায় বিএনপি। কিন্তু কিছুতেই মিলছিল না পুলিশি অনুমতি। অবশেষে অনুমতি পায় তারা। আর এই অনুমতি পাওয়ার পর ‘বড়’ সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয় দলটি।

সমাবেশ উপলক্ষে শুক্রবার (২০ জুলাই) সকালে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনের সড়কে বিদ্যুত ও ল্যাম্পপোস্টের খুটিতে প্রায় অর্ধশত মাইক লাগায় বিএনপি। নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনের সড়কের পূর্বে দিকে পল্টন মসজিদ এবং পশ্চিম দিকে ঢাকা ব্যাংক ভবন পর্যন্ত মাইক লাগানোর মৌখিক অনুমতি পায় তারা। অনুমোদিত এই জায়গাটুকুই সমাবেশ করার কথা বলা হয় বিএনপিকে।

কিন্তু দীর্ঘ দিন পর সমাবেশ করার অনুমতি পেয়ে সেটিকে পুরোপুরি কাজে লাগায় বিএনপি। ২৪ ঘণ্টার প্রস্তুতিতে ‘বিশাল’ জনসভা আয়োজন করে তারা। ফকিরাপুল মোড় থেকে কাকরাইল নাইট্যাঙ্গেল মোড় পর্যন্ত কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় নেতা-কর্মীতে।

এদিকে সমাবেশের অনুমতি পেলেও সময় স্বল্পতার কারণে মঞ্চ তৈরির সুযোগ পায়নি বিএনপি। ফলে পিকআপ ভ্যানের ওপর দাঁড়িয়েই দলের শীর্ষ বক্তৃতা দেন।

এদিকে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সম্ভব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কয়েকশ সদস্য মাঠে ছিল। সমাবেশের জন্য বেঁধে দেওয়া ছিল বেশ কিছু শর্ত। সেগুলোর মধ্যে ছিল— বিকেল ৫টার মধ্যেই সমাবেশ শেষ করতে হবে। লাঠি, বাঁশ, ছুরি, কাঁচি, বিস্ফোরক দ্রব্য মিছিলে ব্যবহার করা বা সমাবেশে নেওয়া যাবে না। সমাবেশ চলাকালীন রাস্তা দখল করে নেতাকর্মীরা দাঁড়াতে পারবে না। বিএনপির নেতা কর্মীরা কোন ফৌজদারি অপরাধে জড়ালে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে।

পুলিশের দেওয়া এই শর্তগুলো মেনেই সমাবেশ করার চেষ্টা ছিল বিএনপির। নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টার মধ্যেই সমাবেশ শেষ করতে না পারলেও সোয়া ৫টায় শেষ হয় বিএনপির সমাবেশ। সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © sylhetfocusnews.com
Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo